দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল ঝিনাইদহের শৈলকুপার মাঠজুড়ে এবার পেঁয়াজ চাষিদের হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস। ভেজাল ও অঙ্কুরোদগমহীন বীজের কারণে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাঠে ঠিকমত গাছ উঠছে না, যেখানে গাছ উঠছে সেখানেও বৃদ্ধিতে অস্বাভাবিক ধীরগতি। ফলে পেঁয়াজ চাষীদের পুরো মৌসুমের হিসেব এলোমেলো হয়ে গেছে।
এতে করে মারাত্মকভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পেঁয়াজের ভেজাল বীজ বিক্রি করা বন্ধের জন্য তাদের একাধিক টিম মাঠে মনিটরিং করছে।
সম্প্রতি শৈলকুপা উপজেলার ধলহরাচন্দ্র, বগুড়া, মনোহরপুর ও হাকিমপুর ইউনিয়নরে বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়া বেশ কিছু পেঁয়াজ বীজের ব্যাচ ছিল মানহীন ও ভেজাল। ব্র্যান্ডের প্যাকেটের বীজ পর্যন্ত ভুয়া লেভেল লাগিয়ে তাদের কাছে বিক্রি করা হয়।
এমনকি দামও তাদের কাছ থেকে বেশি নেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে শৈলকুপা উপজেলায় ১২ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা গত মৌসুমে ছিল ১২ হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছিল। তবে এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজারে অধিক দামে বিক্রয় করা হচ্ছে পেঁয়াজ বীজ। ভারতীয় হাইব্রীড জাতের লালতীর পেঁয়াজ বীজ প্রতিকেজি ২৫ থেকে ২৮ হাজার দরে বিক্রি করা হয়েছিল। এ বছর ওই বীজ প্রতিকেজি ৫৮ থেকে ৬৫ হাজার কেজি সদরে বিক্রি করা হচ্ছে। সুখ সাগর হাইব্রীড জাতের দাম ছিল প্রতিকেজি ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। এবার বিক্রি করা হচ্ছে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা কেজি।
সূত্র জানায়, নামসর্বস্ব কিছু পেঁয়াজ বীজ কম্পানি স্থানীয় বাজারগুলোর বীজের দোকানিদের অধিক লাভ করার আশা দেখায়। পরে তারা ওই বীজ দোকানিদের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিদের কাছে বিক্রি করছে। এমনকি তারা চাষিদের অধিক ফলনের আশা দেখাচ্ছে। এছাড়াও ভারত থেকে আসা নিম্নমানের পেঁয়াজ বীজ একই কায়দায় চাষিদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে চাষিরা ওই বীজ কিনেও প্রতারিত হয়েছেন।
আওধা গ্রামের কৃষক ঈসমাইল শেখ বলেন, ‘প্রতিকেজি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে এ বছর বীজ কিনেছি। রোপণের পর দেখি অর্ধেকও গজায় না। যে গাছগুলো উঠেছে, সেগুলো আবার রোগাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। এ বছর পেঁয়াজের ভালো দামের আশায় ৬ বিঘা জমিতে চাষের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে এখন বীজ নষ্ট হওয়ার কারণে সেই বাড়তি খরচই যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার, সেচ, শ্রমসহ সব মিলিয়ে যে বিনিয়োগ হয়েছে, তা উঠিয়ে আনার কোনো আশা নেই। সব মিলিয়ে আমার অন্তত দুই লাখ টাকার মতো ক্ষতি হবে।’
ডাউটিয়া গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমরা তো বিশ্বাস করেই বীজ কিনি। তবে কেউ যদি প্যাকেটে ভেজাল ঢুকিয়ে দেয়, সেটা বোঝা যায় না। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অনেককেই জানিয়েছি আমাদের কোনো লাভ হয়নি। ক্ষতির বোঝা তো শুধু আমাদের কাঁধেই এসে দাঁড়ায়।’
হাটফাজিলপুর এলাকার পেঁয়াজ বীজ বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা গত বছর যে কম্পানির বীজগুলো চাষিদের কাছে বিক্রি করেছি এবারও সে কম্পানির বীজ বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এ বছর বীজের দাম আগের বছর চেয়ে কিছুটা বেশি। এরই মধ্যে অনেক চাষি পেঁয়াজ বীজের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোকে জানিয়েছি।’
এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু এলাকা থেকে এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই সকল কম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থ পেঁয়াজ চাষিদের তালিকা তৈরি করছি। শিগগিরই তাদের ক্ষতিপূরণসহ পেঁয়াজ চাষের জন্য পুনঃব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এতে করে মারাত্মকভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পেঁয়াজের ভেজাল বীজ বিক্রি করা বন্ধের জন্য তাদের একাধিক টিম মাঠে মনিটরিং করছে।
সম্প্রতি শৈলকুপা উপজেলার ধলহরাচন্দ্র, বগুড়া, মনোহরপুর ও হাকিমপুর ইউনিয়নরে বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়া বেশ কিছু পেঁয়াজ বীজের ব্যাচ ছিল মানহীন ও ভেজাল। ব্র্যান্ডের প্যাকেটের বীজ পর্যন্ত ভুয়া লেভেল লাগিয়ে তাদের কাছে বিক্রি করা হয়।
এমনকি দামও তাদের কাছ থেকে বেশি নেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে শৈলকুপা উপজেলায় ১২ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা গত মৌসুমে ছিল ১২ হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছিল। তবে এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজারে অধিক দামে বিক্রয় করা হচ্ছে পেঁয়াজ বীজ। ভারতীয় হাইব্রীড জাতের লালতীর পেঁয়াজ বীজ প্রতিকেজি ২৫ থেকে ২৮ হাজার দরে বিক্রি করা হয়েছিল। এ বছর ওই বীজ প্রতিকেজি ৫৮ থেকে ৬৫ হাজার কেজি সদরে বিক্রি করা হচ্ছে। সুখ সাগর হাইব্রীড জাতের দাম ছিল প্রতিকেজি ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। এবার বিক্রি করা হচ্ছে ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা কেজি।
সূত্র জানায়, নামসর্বস্ব কিছু পেঁয়াজ বীজ কম্পানি স্থানীয় বাজারগুলোর বীজের দোকানিদের অধিক লাভ করার আশা দেখায়। পরে তারা ওই বীজ দোকানিদের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিদের কাছে বিক্রি করছে। এমনকি তারা চাষিদের অধিক ফলনের আশা দেখাচ্ছে। এছাড়াও ভারত থেকে আসা নিম্নমানের পেঁয়াজ বীজ একই কায়দায় চাষিদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে চাষিরা ওই বীজ কিনেও প্রতারিত হয়েছেন।
আওধা গ্রামের কৃষক ঈসমাইল শেখ বলেন, ‘প্রতিকেজি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে এ বছর বীজ কিনেছি। রোপণের পর দেখি অর্ধেকও গজায় না। যে গাছগুলো উঠেছে, সেগুলো আবার রোগাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। এ বছর পেঁয়াজের ভালো দামের আশায় ৬ বিঘা জমিতে চাষের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে এখন বীজ নষ্ট হওয়ার কারণে সেই বাড়তি খরচই যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সার, সেচ, শ্রমসহ সব মিলিয়ে যে বিনিয়োগ হয়েছে, তা উঠিয়ে আনার কোনো আশা নেই। সব মিলিয়ে আমার অন্তত দুই লাখ টাকার মতো ক্ষতি হবে।’
ডাউটিয়া গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমরা তো বিশ্বাস করেই বীজ কিনি। তবে কেউ যদি প্যাকেটে ভেজাল ঢুকিয়ে দেয়, সেটা বোঝা যায় না। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ অনেককেই জানিয়েছি আমাদের কোনো লাভ হয়নি। ক্ষতির বোঝা তো শুধু আমাদের কাঁধেই এসে দাঁড়ায়।’
হাটফাজিলপুর এলাকার পেঁয়াজ বীজ বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা গত বছর যে কম্পানির বীজগুলো চাষিদের কাছে বিক্রি করেছি এবারও সে কম্পানির বীজ বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এ বছর বীজের দাম আগের বছর চেয়ে কিছুটা বেশি। এরই মধ্যে অনেক চাষি পেঁয়াজ বীজের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলোকে জানিয়েছি।’
এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছু এলাকা থেকে এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই সকল কম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থ পেঁয়াজ চাষিদের তালিকা তৈরি করছি। শিগগিরই তাদের ক্ষতিপূরণসহ পেঁয়াজ চাষের জন্য পুনঃব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অনলাইন ডেস্ক